ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালইয়ের ৫২ জন শিক্ষকের পদত্

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের চার নেতার হাতে লাঞ্ছনার বিচার না পেয়ে ৫২ জন শিক্ষক বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।

৮ অক্টোবর, সোমবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে থাকা ৫২ জন শিক্ষক রেজিস্ট্রার ড. তৌহিদুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

এর আগে রবিবার সেমিস্টার পরীক্ষায় অকৃতকার্য এক ছাত্রীকে পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষা জোর করে দেওয়ানোর চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের নেতারা। এ সময় শিক্ষকরা বাধা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দায়িত্বরত শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ঈশিতা বিশ্বাসকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমোদন না দেওয়ার পরও জোর করে পরীক্ষা দেওয়ায় ছাত্রলীগ। এ সময় শিক্ষকরা বাধা দিলে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ দলের নেতাকর্মীরা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষক মহিউদ্দিন তাসনিনের সাথে অসৌজন্য আচরণ করেন।

এদিকে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় গতকাল বিকেল ৪টার দিকে জরুরি সভা ডাকে শিক্ষক সমিতি। সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহসভাপতি ইমরান মিয়া, সহসভাপতি আদ্রিতা পান্না ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবালের বিচারের দাবি জানানো হয়।

তাদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও ১৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত দুটি আবেদন করা হয়। পরে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্যের কক্ষে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভার একপর্যায়ে কোনো প্রকার মীমাংসা ছাড়াই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বের হয়ে আসেন। পরে তারা প্রতিটি হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করেন। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন, আমরা সঠিক বিচার না পাওয়ায় আজ দুপুরের দিকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে ।