কিরণ রাওয়ের ১০ সেকেন্ডের সিনেমা

প্রযোজক ও পরিচালক কিরণ রাও আর তাঁর স্বামী আমির খান বরাবরই সামাজিক সমস্যা নিয়ে সোচ্চার। এবার তার অংশ হিসেবে কিরণ রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য দুটি সামাজিক সচেতনতামূলক ছবি বানিয়েছেন। প্রতিটি ছবির দৈর্ঘ্য ১০ সেকেন্ড। ইতিমধ্যে ছবি দুটি আমির খান তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন, জানিয়েছেন তাঁর মুগ্ধতার কথা।

ফেসবুকে আমির খান প্রথম ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ১০ সেকেন্ডে যে একটা পরিবর্তনের গল্প বলা যায়, সেটি নাকি তিনি জানতেন না। স্ত্রী কিরণ তাঁকে শিখিয়েছেন, একটা সিনেমার দৈর্ঘ্য ১০ সেকেন্ডও হতে পারে! আর সেখান থেকেই আসতে পারে সমাজ পরিবর্তনের ভাবনা।

প্রথম ছবিতে দেখানো হয়, এক বাড়িতে দুটি শিশু—একটি মেয়ে, আরেকটি ছেলে। স্কুলড্রেস পরা ছেলেকে গ্লাসভর্তি দুধ দেওয়া হয় আর মেয়েকে দেওয়া হয় অর্ধেক গ্লাস। তখন ছেলেটি বোনের গ্লাসে দুধ ঢালে, যতক্ষণ পর্যন্ত দুজনের গ্লাসে দুধের পরিমাণ সমান হয়। এভাবেই দেখানো হয়, কীভাবে একটা ছোট্ট ছেলে ঘরের ভেতর থেকে পরিবর্তন শুরু করতে পারে।

দ্বিতীয় ছবিতে দেখানো হয়, একজন নারীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, তাঁর চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন। ওই নারী যখন ক্ষত স্থানে মলম লাগিয়ে ঢাকছেন, তখন বাসার কাজের সহকারী ফোন হাতে এগিয়ে আসেন। তিনি পুলিশের নম্বরে ডায়াল করে ফোন এগিয়ে দেন গৃহকর্ত্রীর হাতে। এভাবে বাড়ির কাজের সহকারী ওই নারীকে সাহসী করে তোলেন। তাঁর সহায়তায় নীরবতা ভাঙেন গৃহকর্মী।

এভাবেই লিঙ্গবৈষম্য আর পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ উঠে আসে মাত্র ১০ সেকেন্ডের সিনেমায়। এই ক্ষুদ্র সময়েই বলা হয়ে যায় পরিবর্তনের কথা, যে পরিবর্তনের শুরু ঘর থেকে।

কিরণ রাও ২০০১ সালে অস্কার মনোনয়ন পাওয়া ‘লগন’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০১০ সালে ‘ধোবি ঘাট’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবিতে তাঁকে কয়েক মিনিটের জন্য অভিনয় করতে দেখা গেছে। ‘পিপলি লাইভ’, ‘দিল্লি বেল্লি’ এবং ‘তালাশ’ ছবির মতো প্রশংসিত ছবির প্রযোজক তিনি। আমির খান আর কিরণ রাও মিলে ২০১৬ সালে পানি ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এর উদ্দেশ্য মহারাষ্ট্রের খরা সমস্যার সমাধানে কাজ করা, সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

অন্যদিকে, চারটি জাতীয় পুরস্কার আর নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পাওয়া আমির খানকে দেখা যাবে ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবিতে। ছবিটি ১৯৯৪ সালের ‘ফরেস্ট গাম্প’-এর অনুকরণে তৈরি হবে। ২০২০ সালে বড়দিন উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।