পাকি সুন্দরীর জালে পড়ে বেহাল ভারতীয় সেনা, সামরিক তথ্য বেহাত!

পাকিস্থানি সুন্দরীর রূপ আর যৌবনের জালে আটকে গিয়েছেন ভারতের এক সেনা সদস্য। প্রেমের জালে আটকে ভারতীয় ওই সেনার কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে নিয়েছেন ওই পাকিস্থানি সুন্দরী।

কিছুদিন আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকে সেনাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা জারি করে ভারত। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। পাকি সুন্দরীকে তথ্য দেওয়া ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশে কর্মরত ওই সেনাকে বৃহস্পতিবার নার্নাউল রেল স্টেশনের কাছে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার যে পাকিস্থানি তরুণীর কাছে তিনি তথ্য ফাঁ-স করেন, তিনি আসলে পাকি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর গুপ্তচর। হরিয়ানার বাসিন্দা ওই জওয়ানের নাম রবিন্দর। তথ্য ফাঁ-সের বিনিময়ে ওই মহিলার কাছ থেকে তিনি ৫ হাজার রুপি নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

দিন কয়েক আগেই বিএসএফ জওয়ানদের হোয়াটসঅ্যাপে কোনো নতুন কারোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা লোভনীয় জাল পেতে পাকিস্থান তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সুন্দরী নারীদের দিয়ে পাতা এই জালকে এসপিওনেজের ভাষায় বলা হয় হানিট্র্যাপ। এই ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও আইএসআই এজেন্টরা ভারতীয় সেনাদের জালে ফেলার জন্য বার বার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলও হয়েছে তারা। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই নিজেদের সেই ট্র্যাপ থেকে সরিয়ে এনেছেন সেনা কর্মকর্তারা।

গত বছর এমনই এক জালে আটকে তথ্য দেয়ার দায়ে অরুণ মারওয়া নামে বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাকে প্রায় ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স উইং।

ফেসবুকে দুই ফেক প্রোফাইল থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তার সঙ্গে চ্যাটিং শুরু হয়। তারপর হোয়াটসঅ্যাপেও আদানপ্রাদান চলতে থাকে নিয়মিত। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। ওই কর্মকর্তাকে হোয়াটসঅ্যাপে ন-গ্ন ছবি পাঠাত ফেসবুকের ওই দুই ‘মহিলা বন্ধু’। আর সেই জালে ধরা পড়েই দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতেন তিনি।

মারওয়ার কাছ থেকে সাইবার ওয়ারফেয়ার, স্পেস এবং স্পেশাল অপারেশন সংক্রান্ত কিছু তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে ওই আইএসআই এজেন্টরা। পুলিশ জানিয়েছে, ৫১ বছর বয়সী অরুণ মারওয়া দিল্লিতে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে কাজ করতেন। ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্যারা-জাম্পিং ইনস্ট্রাকটর এবং গরুড় কমান্ডোর প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন মারওয়া।