জ্যামের বিভ্রান্তি || ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম

দীর্ঘ ৭ বছর পর যখন পরিবারের সিদ্ধান্ত অটুট রইল গাজীপুর যাওয়া হবে ঠিক তখন আমিও বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করব।ছোট কাকাই এসেছে আমায় নিয়ে যেতে।শুক্রবারে সকালে ১০:৩০ মি. যাত্রা করলাম। সাধারণ ভাবে ৪টা বাজবে পৌছুতে। তবুও ৫টা বাজবে ধরে রাখলাম।কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাসায় পৌছাতে রাত ৯টা বাজল। কি পরিমাণ যে জ্যাম তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা নিশ্চয়ই !

যাওয়ার সময়ই ভেবে রাখা হয়েছিল যে ৩/৪ দিনের মধ্যেই আবার সিলেটে ফিরব। কিন্তু ৩/৪ দিনের বদৌলতে ১০দিন হয়ে গেল। এটাকে সৌভাগ্য বলব না দুর্ভাগ্য বলব ঠিক বুঝতে পারছিনা! সিদ্ধান্ত হয় বুধবারের ট্রেন এ সিলেট ফিরব। তদনুযায়ী রবিবারে যখন বড় ভাই টিকেট কাটতে গেল, গিয়ে দেখে কি এক কারণে সেদিন ট্রেন যাবেনা। তারপরের দুদিন শোভন চেয়ার,স্প্যাশাল চেয়ার কোনোটাই নেই।শুধু শোভন রয়েছে যাতে করে বৃদ্ধ ঠাকুমাকে (দাদী) নিয়ে আসা সম্ভব নয়।কিন্তু আমার বাবাকে না বলেই পরদিনের টিকেট শোভন বুকিং করে নেয়। পইপই করে বলে দিয়েছে শোভনের টিকেট যাতে কোনো ভাবেই না কাটে। ফলে আমাকে জানানোর পর যখন বললাম যে বাপী তো বারণ করেছে। তবুও আমাকে না জানিয়ে কেন বুকিং করলা ? তারপর অর্ধ ভাড়া দিয়ে আর অর্ধেক ফিরে পেয়ে টিকেট বাতিল করল। শনিবারে ধর্মীয় কি বিধিনিষেধ রয়েছে । যার ফলে সেদিনের টিকেট আর করা হয়নি অর্থাৎ রবিবারের টিকেট কাটা হল। তাও আবার রাতের কারণ সকালের টিকেটে সকাল ৬টায় ট্রেন ছাড়বে। আর স্টেশনে গিয়ে পৌছাতে হলে সম্ভবত রাত ২/৩টায় রওনা করতে হবে জ্যামের কারণে । এরপর আর কোনো ট্রেন নেই রাতের আগে। আর বাসে ঠাকুমা আসতে খুব বেশি কষ্ট হবে। এছাড়া বৃদ্ধার বাহ্যিক সমস্যাও আছে। অথচ একটাই মাত্র ব্রেক দেয় বাসে।

যাইহোক, দিনগুলো অতিবাহিত করে ফেরার দিন অর্থাৎ রবিবারে রাত ১০:৩০ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে সিলেটের উদ্দেশ্যে।

গাজীপুরে এত বেশি পরিমাণ জ্যাম যে ৩০/৪০মিনিটের রাস্তা যাওয়ার জন্য ৩ঘন্টা সময় হাতে রেখে ৭:৩০ টায় রওনা দিলাম। চৌরাস্তা থেকে গাড়িতে উঠেছি।জ্যামের কারণে খানিক পথ গিয়ে নেমে পড়লাম।ভাই বলছে,রিক্সা নিয়ে যাবে অপজিট রোডে।ওই রাস্তাটা ফাঁকা রয়েছে। উঠলাম রিক্সায়, হায় কপাল! ৫মি.পর এটাও ব্লক। কোনোরকম কাটিয়ে কাটিয়ে ভেতরের অলিগলির রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে ড্রাইভার আমাদের নিয়ে এগুচ্ছে। টঙ্গী ব্রিজ আর পার হলনা ড্রাইভার। ওদিকে নিষেধ। ওখানে নেমে হাতে সময় আছে মাত্র ১৫মি. আমাকে বলল তুই আগে ব্রিজের ওপারে যা। আমি চোখের পলকে ব্রিজ পার হলাম। কিন্তু ঠাকুমা টঙ্গী ব্রিজ পার হতে ৭মি লাগিয়ে দিল। এপারে এসে বড়দা বলল,সামনের দোকানে গিয়ে বস।কিছু খা খাইলে। ঠাকুমারে চা দিতে বল।গিয়ে বসলাম দোকান একটাতে। ও বলছে, আর যাওয়া সম্ভব না বোন। দেখ ১০:৩০টা বাজে। আর রাগে ৩টা টিকেটে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল।

এয়ারপোর্ট গিয়েই আর কাজ কি? ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে চলে গেছে। আবার চৌরাস্তা পিছ ফিরলাম। এরই মধ্যে ১টা এক্সিডেন্ট চোখের সম্মুখে। ময়লা বোঝাই এক ট্রাক এক পথচারীকে চাপা দিয়ে চলে গেল। লোকটি এভাবেই পড়ে রইল। অন্য আরেক ট্রাক এসে পুনরায় উপর দিয়ে চলে গেল। এরপর আর জানিনে। আমাদের বাস খানিক এগিয়ে যায়। সেদিনই আবার ঝিগাতলায় বাস এক্সিডেন্টে ৫জন স্টুডেন্ট মারা গেছে। এর ফলে গাড়ি ভাংচুর আর নিত্য প্রত্যক্ষ জ্যামের কবলে পড়ে সময় বৃথা ব্যয় হল ৭ঘন্টা। আর টাকা বৃথা তো গেলই সেই সঙ্গে কষ্ট ফ্রি। আর দুর্ভোগ সে আর বলতে !!!

যাইহোক রাতে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে শেষমেশ বাসেই আসতে হল। ঘরে ফিরে যেন সতেজ নিঃশ্বাস নিলাম।